জীবনের সব থেকে বড় পাঠ!


রুদ্র মুহাম্মদ মনজু ॥  জীবনের বিপরীতকে বুঝার মাঝে লুকিয়ে রয়েছে। এখানে দিন হলে রাত হবে, আর এখানে জন্ম নিলে মৃত্যু হবে এবং এখানে সফলতা পেলে অসফলতা আসবে। আর এখানে দুটো একসাথে থাকে!

যে ব্যক্তি মনে করবে একটিকে পছন্দ করবো আর অন্যটি ছেড়ে দিব, তাহলে সেই ব্যক্তি ব্যর্থ মুসিবতে পড়ে যাবে; তার জীবন বিভিন্ন চিন্তায় ঘিরে থাকবে। এই চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার একটি উপায় আছে দুটোকে স্বীকার করে নাও, দুটোই আছে এবং দুটো একসাথে থাকে। গোলাপ গাছে ফুলও আছে এবং কাঁটাও আছে। আমাদের মন সব সময় এটা বলে জীবনে শুধু ফুল আর ফুল থাক, আমাদের মন বলে শুধু দিন আর দিন হউক জীবনে, আমাদের মন বলে জীবনে শুধু সুখ আর সুখ হোক।

কিন্তু আমাদের মন দিয়ে অস্তিত্বের নিয়ম চলে না, অস্তিত্বের নিয়ম যেমন আছে তেমনি আছে। আমাদের মন দিয়ে অস্তিত্বের নিয়ম চলতে পারে না, কিন্তু আমরা আমাদের মনকে অস্তিত্বের নিয়ম অনুসারে চালাতে পারি। যা হবে সেটা হলো: আমরা অস্তিত্বের নিয়মকে আগে বুঝার চেষ্টা করবো এবং তার নিয়ম অনুসারে চলবো। এই নিয়ম অনুসারে চলাকে আমি সন্ন্যাস এবং সুফি বলি।

অস্তিত্বের নিয়মের সাথে যে ব্যক্তি লড়াই করে সেই ব্যক্তি অজ্ঞানী, কারণ সেই ব্যক্তি হেরে যাবে অস্তিত্বের সাথে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। অস্তিত্বের সাথে জয়ী হওয়া এমনি অসম্ভব যেমন কোন স্রোত সাগরকে জয় করতে চায়, কোন বৃক্ষের পাতা বৃক্ষকে জয় করতে চায়; বা তোমার চুল তোমাকে জয় করতে চায়। অস্তিত্বকে জয় করা সম্ভব নয়! কিন্তু অস্তিত্বের সাথে দুটি বিকল্প আছে। আমরা অস্তিত্বের বিপরীতে যেতে পারবো বা অস্তিত্বের সাথে থাকতে পারবো।

অস্তিত্বের সাথে লড়াই করতে পারবো কিন্তু কখনো জয়ী হতে পারবো না বরং লড়াই করতে যেয়ে নিজেই ভেঙ্গে যাব আর ধ্বংস হয়ে যাব। আর যদি অস্তিত্বের সাথে থাকি তাহলে লড়াই না করে জয়ী হয়ে যাব। আত্মসমর্পনে বিজয় লুকিয়ে রয়েছে। অস্তিত্বের নিয়ম হলো যেখানে সুখ আছে সেখানে দুঃখ আছে, এই নিয়মকে আমরা স্বীকার করে নিতে চাই না; আমরা বলি আমরা শুধু সুখকে পছন্দ করতে রাজি আছি কিন্তু দুঃখকে আমরা পছন্দ করতে রাজি নই। ।

আমরা পয়সার এপিঠ পছন্দ করতে চাই কিন্তু পয়সার ওপিঠ পছন্দ করতে চাই না। দ্বিতীয় পিঠ কোথায় যাবে? প্রথম পিঠ তুমি পছন্দ করেছ দ্বিতীয় পিঠ তার সাথে সাথে চলে আসবে। প্রথম কথা হলো রুদ্র মুহাম্মদ মনজু তুমি বলেছো: পৃথিবীতে বসবাস করে অনেক আনন্দিত কিন্তু কখনো কখনো হঠাৎ উদাসী বা পেরেশান হয়ে যাও, এই উদাসী বা পেরেশান কি? যা আসে আর চলে যায়। যে আনন্দ তুমি উপভোগ করছ, সেই আনন্দের ছায়া, সেই আনন্দের দ্বিতীয় পিঠ।

আনন্দকে যেভাবে স্বীকার করে নিয়েছ ঠিক সেইভাবে উদাসী বা পেরেশানকে স্বীকার করে নাও, তোমার স্বীকৃতির মাঝে যেন একটুও পার্থক্য না থাকে, এবং তুমি পছন্দ ছাড়া স্বীকার করে নিবে। আনন্দ আসলে আনন্দ, আর উদাসী বা পেরেশান আসলে- উদাসী বা পেরেশানকে স্বীকার করে নিবে। তুমি এটা কখনো বলবে না আনন্দ এসেছে, আনন্দ থেকে যাক কখনো যেন না যায়, আর তুমি এটাও কখনো বলবে না উদাসী বা পেরেশান এসেছে, তারা যেন না থাকে তাড়াতাড়ি চলে যায়। যদি আনন্দ আসে তোমার জীবনে তাহলে অতিথি হিসাবে গ্রহণ করবে এবং সেই আনন্দকে স্বাগতম জানাবে।

আর যদি তোমার জীবনে উদাসী বা পেরেশান আসে তাহলেও তাকে স্বাগতম জানাবে, ততটুকু ভাবে স্বাগতম জানাবে যতটুকু ভাবে আনন্দকে স্বাগতম জানিয়ে ছিলে। তখন তোমার জীবনে একটি পরির্বতন ঘটে যাবে! কেমন পরির্বতন? কিসের পরির্বতন? তোমার জীবনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে, সেই ঘটনা হলো তোমার ভিতরে স্বয়ংদ্রষ্টা জন্ম হবে; তুমি আনন্দকে আসতে দেখবে এবং উদাসী বা পেরেশানকেও আসতে দেখবে, আবার আনন্দকে যেতে দেখবে এবং উদাসী বা পেরেশানকেও যেতে দেখবে। তখন তোমার ভিতরে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে যে তুমি আনন্দিতও নও এবং উদাসী বা পেরেশানীও নও, তুমি দুটোর স্বয়ংদ্রষ্টা।