কে তুমি অচেতন, কোথায় ছিলে সে মহাসৃজন কালে?

নজরুল ইশতিয়াক।। আমরা এই ধরাধামে সাধারণের ভীড়ে যে নজরুল ইসলামকে জানি চিনি সেটা বহুমাত্রিক বৈচিত্র্যময় নজরুল ইসলাম। গানে কবিতায় প্রবন্ধে তার ক্ষুদ্র প্রকাশ মেলে। তিনি নিজেই বলেছেন আমার ষোল আনা সৃষ্টির নেশায় ডগমগ। এক আনা প্রকাশ পায়।

আবার মাজারের খাদেম, লেটোর দলের গাতক-লেখক পরবর্তীতে সৈনিক, বাম আন্দোলনের নেতা।। একই সাথে মাতৃশক্তির সাধক, যোগ সাধক এবং সূফী সাধক। সামগ্রিক নজরুল ইসলাম এক অখণ্ড চরিত্র হয়ে উঠে। জীবনের নানান রূপান্তরের ধারায় পর্যবেক্ষণ- অনুসন্ধানের দৃষ্টি দেয়া ছাড়া তাঁকে চিহ্নিত করা মস্ত ভুল হবে, এটা শতভাগ সত্যি। মাজারের খাদেম কিংবা লেটোর দলের নজরুল মনস্তত্ত্ব উপলব্ধি করলেও বিস্ময় অপেক্ষা করে। কি করতেন, কি ভাবতেন কিশোর নজরুল? আর দশম শ্রেণীর ছাত্র নজরুল ইসলাম তো তখনই বিশ্বটাকে এক প্রকার জেনে গেছেন। 

বীরত্বে- বিদ্রোহে, লেখায়, বলায় তিনি খণ্ড, বৈচিত্রময়।

আর স্রষ্টা নজরুল একটি কালে এসে মহাকালের তীর্থযাত্রী।

ফলে সাধক কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সাধারণ আলোচনা বড়ই অন্যায় অবিচার অনায্য হয়ে উঠতে পারে। 

আমি বলছি না তাকে নিয়ে আলোচনা নয়। আমি বলছি আলোচনার আগে নজরুলের মতো করে বর্তমান বাস্তবতায় জীবন যাপন করে দেখুন। ঘরে বসে দু চার কলম লেখা তো নস্যি। বাস্তবতার সাথে না মিশে, জীবনকে বাজী না ধরে, কল্পনায় আলপনা এঁকে কি হয়? বড় জোর পান্তা ভাত।

নজরুল ইসলামকে দেখতে হবে ভিতরের শক্তি দিয়ে, প্রেমের গভীরতা দিয়ে, দায়িত্বশীলতার মাপকাঠি দিয়ে। 

২৪ ঘণ্টা হৃদয়কে পর্যবেক্ষণ করে। না হলে যা জুটবে তা সিকি আনারও উপার্জন হবে না। ফলে আমি বলবো যারা সাধক নজরুল ইসলামকে ছুঁয়ে দেখতে চান, তাদেরকে বাস্তবতার নিরীখে উপলব্ধি করতে হবে। 

কাজী নজরুল ইসলাম চৈতন্যময় জগতের বাসিন্দা।

চৈতন্য শক্তি জড়ানো বক্ষে নজরুল এসে খেলা করে। তাই এই বিপুলায়তনে এসে নজরুল ইসলাম খেলা করে বেলা শেষে গান গায়। তবু বলে”   খেলা শেষ হলো তবু শেষ হয়নি বেলা, আবার খেলা তো বাকি কিন্তু বেলা শেষ। 

সন্ধার গোধূলি লগ্নে জীবন জন্মের পরম দেবতাকে ছুঁয়ে পরম প্রাপ্তির অভিমান ঝরে পড়ে। আবার কোথাও বলে উঠেন” কেন আরও আগে তুমি জাগালে না, এই অবেলায় কেন? ঘুম ভাঙালে তোমায় নম নম” 

সাধক নজরুল ইসলামই কেবল বলতে পারে” কে তুমি অচেতন কোথায় ছিলে সে মহাসৃজনকালে….