উন্নয়নের ক্ষতি বরদাশত করা হবে না

development

সংলাপ ॥ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দুর্নীতির কারণে উন্নয়নের ক্ষতি বরদাশত করা হবে না। যে ঘুষ নেয় সেও যেমন অপরাধী তেমনি যে ঘুষ দেয় সেও সমান অপরাধী।

গত সপ্তাহে শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ২০১৯’  উপলক্ষ্যে তিনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

এ সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থা প্রধানদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন যেন কোনোভাবে দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে সকলকে আরও ভালভাবে নজর রাখতে হবে। একেবারে নিম্নস্তর পর্যন্ত যারা কাজ করে তাদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে আপনাদেরই নির্দেশনা দিতে হবে।’

এ সময় কৃষিজমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে জমি নষ্ট করা একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী  বলেন, কৃষিজমি রক্ষার জন্য একটা নীতিমালা বা মাস্টার প্ল্যান থাকা দরকার। এখন অনেকের টাকা-পয়সা হয়েছে। যে যেখানে খুশি দালান-কোঠা তুলছেন। যত্রতত্র বাড়িঘর ও দালান-কোঠা নির্মাণ করলে পরে তাদের নাগরিক সুবিধা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, ২০২০ থেকে ২০২১ এরই মধ্যে বাংলাদেশে একটা ভিক্ষুক থাকবে না। একটা মানুষ গৃহহারা থাকবে না, একটা মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। এখনো সবাই যে সচ্ছল তা না, অন্তত কেউ যেন অসচ্ছল না থাকে সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের কাজ করতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এসব বিষয়ে আমরা যেন গর্ব করে বলতে পারি।

চীনের প্রবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চীন থেকে আমাদের প্রবৃদ্ধি বেশি। আমরা ইতোমধ্যে ৮ ভাগে পৌঁছেছি। ৮ এর বেশি উঠলেই প্রবৃদ্ধির গতি কমে যায়। এটা ইকোনমিক্সের একটা বিষয়। আমাদের লক্ষ্য আমরা ৮ পয়েন্ট টু-তে (৮.২) যাব। এটা আমরা করতে পারব বলেই বিশ্বাস করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এটা তো আমাদের দেশে আছেই। ভৌগোলিক কারণেই এটা হয়ে থাকে। এখন সারাদেশে বন্যা চলছে। এ বন্যা পাহাড়ি, হাওর বা একটু উচু অঞ্চলে আছে। এ পানিটা ধীর গতিতে নেমে আসতে আসতে নিম্ন অঞ্চলগুলো প্লাবিত হবে। এ জন্য আপনারা প্রস্তুত থাকবেন এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন। বন্যায় মানুষের যেন প্রাণহানি না ঘটে এবং খাদ্যের জন্য মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন।