আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেষীদের ফাঁদে আটকা পড়েছে কাশ্মির জায়নবাদ এবং চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ!

সংলাপ ॥ জায়নবাদের জন্ম হওয়ার পর কেবলমাত্র দুইবার এটি হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। প্রথমবার জায়নবাদ হুমকির সম্মুখীন হয় যখন তারা উসমানীয় খিলাফতকে উৎখাত করতে যায়, তখন ভারতীয় উপমহাদেশে সংগঠিত হওয়া ‘খিলাফত আন্দোলন’-এর দ্বারা। দ্বিতীয়বার জায়নবাদ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে বর্তমান রুশ-চীন এলায়েন্সের দ্বারা।

চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) জায়নবাদীদের অর্থনীতির জন্য অনেক বড় একটা হুমকি। বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ হলো প্রাচীন সিল্ক রোডের আদলে গড়া একটি প্রকল্প যা তিনটি মহাদেশকে (এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ) একটি অর্থনৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ করবে সড়ক ও নৌপথের মাধ্যমে। আর এই ইজও প্রজেক্টে চীনের পাশে পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মায়ানমারের মত বাংলাদেশও রয়েছে।

চীনের এই প্রজেক্টকে টক্কর দেয়ার জন্য জায়নবাদীরা তৈরী করেছে Free Open Indo-Pacific (FOIP) স্ট্র্যাটেজি। এই স্ট্র্যাটেজির সাথে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাস্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান। তারা চায় বাংলাদেশও এই স্ট্র্যাটেজিতে যোগ দিক। আর এজন্যই আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ায় যারা মুসলমানদের হত্যা করেছে, সেইসব খুনিরাই রোহিঙ্গাদের জন্য মুসলিমদের চেয়েও বেশী চোখের পানি ঝরিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশকে BRI থেকে FOIP এ নেয়ার পথে জায়নবাদের প্রধান বাঁধা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। যেহেতু বিএনপি সম্পূর্ণ একটা পঙ্গু দলে পরিণত হয়েছে, ফলে জায়নবাদীরা তাদেরকে সরকার পতনের কাজে ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে না। বিভিন্ন নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকেদের প্রাধান্য থাকায় জায়নবাদীরা ‘কালার রেভ্যুলেশন’ সৃষ্টি করতেও ব্যর্থ হচ্ছে। আর তাই তাদের টার্গেট হলো এদেশের ছাত্রসমাজ। তারা বারবার বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে ছাত্রসমাজকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। যেমন: ‘কোটা আন্দোলন’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’, ‘আবরার হত্যাকান্ড’ ইত্যাদি। এছাড়া ‘ভোলা ট্রেজেডি’-তেও এসব জায়নবাদীদেরই হাত রয়েছে যাতে উগ্র ইসলামপন্থীদের ক্ষেপিয়ে তোলা যায় সরকারের বিরুদ্ধে।

লক্ষ্য করে দেখুন, পাকিস্তানে কী হচ্ছে! ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটানোর জন্য বিরোধী দলগুলো কীভাবে উঠে পড়ে লেগেছে! আর ভারতের মিডিয়া কতটা উৎসবের সাথে তা প্রচার করছে! আপনি কী বিশ্বাস করবেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির দালাল মিডিয়াগুলো পাকিস্তানের একজন মাওলানাকে (মাওলানা ফজলুর রহমান) কীভাবে প্রমোট করছে! কীভাবে তার মার্চকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে প্রচার করছে! কেন তারা এগুলো করছে? কারণ ইমরান খান কাশ্মিরের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। আর কাশ্মির হলো চীনের ইজও প্রকল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুতরাং আজাদ কাশ্মির আন্দোলন যে একটি আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেসী মহলের ফাঁদে আটকা পড়েছে তা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সকল পক্ষেরই স্বার্থ রয়েছে, থাকবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্বে স্থান দেওয়া দরকার সাধারণ মানুষের মানবতার বিষয়টি যা ভারত-পাকিস্থান কেউই দিতে পারছে না। মুসলমান কিংবা হিন্দু পরিচয়ে নয়, এই অসহনীয় যাতনা থেকে কিভাবে মুক্তি মিলবে কাশ্মিরী জনগণের তাই দেখার বিষয়।